
দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়া, আনোয়ারা ও চন্দনাইশ উপজেলার সংযোগস্থল চাঁনখালী খালের উপর দীর্ঘদিন ধরে কোনো সেতু না থাকায় হাজারো মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় চামুদরীয়া ঘাট দিয়ে পারাপার করতে বাধ্য হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বর্ষা মৌসুমে এ দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে।এ প্রেক্ষাপটে চামুদরীয়া ঘাটে আধুনিক ‘ওয়াই টাইপ’ (Y-Type) সেতু নির্মাণের দাবিতে সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেলে চট্টগ্রাম একাডেমি মিলনায়তনে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আনোয়ারা ফাউন্ডেশনের ব্যানারে আয়োজিত সভায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন আনোয়ারা ফাউন্ডেশনের সভাপতি নাছির উদ্দীন আহমদ শাহ্ এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক এম. নুরুল হুদা চৌধুরী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজনীতিবিদ এম. মঞ্জুর উদ্দিন চৌধুরী। মূখ্য আলোচক ছিলেন মাওলানা মীর মো. মঈনুদ্দিন নুরী কোরাইশী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন কন্ট্রাক্টর, গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ফজল আহমদ, সাবেক বাংলাদেশ ব্যাংকের এজিএম একরাম হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা রাজা মিয়া, এডভোকেট শওকত হোসাইন, সমাজসেবক আব্দুর ছবুর, ভাস্কর ডি কে দাশ মামুন, সাংবাদিক আব্দুর নুর চৌধুরী, সোহেল মো. ফখরুদ্দীন, আনোয়ারা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি সাগর মিত্র, ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিন আনচারী, পরৈকোড়া ইউনিয়ন সমিতি চট্টগ্রামের সভাপতি সুজিত কুমার দাশ, এডভোকেট শফিউল আজিম শাকিল, ফজলুল কাদের, নারী নেত্রী তাহেরা আকতার শারমিন, কাজল বোস, পরিবেশবিদ একেএম আবু ইউছুফ, যিশু দাশ, সাংবাদিক কাউছার আলম, মা ও শিশু হাসপাতালের সদস্য পরিমল দত্ত, ছাত্রনেতা তানভীরুল হুদা, ব্যাংকার মুজিবুর রহমান চৌধুরী, মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ, এস এম জোবাইদুল ইসলাম সাদ্দাম, ব্যবসায়ী হারুনুর রশীদ, কবি কাজী মোহাম্মদ আদনান, এমদাদুল ইসলাম, লিটন চৌধুরী, হাসমত উল্ল্যাহ্ পিংকু, মিজানুর রহমান রুবেল, নুরুল হোসেন চৌধুরী, আনিস কনি, রিংকেল গুহ, বাসু নন্দী, মো. রুবেল প্রমুখ। বক্তারা বলেন, চাঁনখালী খালের উপর একটি পরিকল্পিত ‘ওয়াই টাইপ’ সেতু নির্মিত হলে একযোগে তিন উপজেলার মানুষের যাতায়াত সহজ হবে, সময় ও ব্যয় অনেকাংশে কমবে। শিল্পাঞ্চল আনোয়ারার সঙ্গে পটিয়া ও চন্দনাইশের যোগাযোগ আরও গতিশীল হবে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তারা আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে চামুদরীয়া ঘাট দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌপথে পারাপার হচ্ছেন। জননিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে দ্রুত সেতু নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। দক্ষিণ চট্টগ্রামের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এ ধরনের সংযোগ সেতু অপরিহার্য। এটি শুধু একটি সেতু নয়, বরং তিন উপজেলার মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির পথ খুলে দেবে বলে বক্তারা মনে করেন।সভায় অংশগ্রহণকারীরা সরকারের মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের যুগে এখনো এত গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সেতু না থাকাকে দুঃখজনক বলে অভিহিত করেন। তারা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও নীতিনির্ধারকদের কাছে দ্রুত সম্ভাব্যতা যাচাই ও প্রকল্প গ্রহণের জোর দাবি জানান। পাশাপাশি এ দাবিকে বাস্তবায়নে স্থানীয় জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। সভা শেষে শক্তিশালী গণদাবি গড়ে তোলার লক্ষ্যে ধারাবাহিক কর্মসূচি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

