শিরোনাম
ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধ, বাতিল ১০৩ অনাপত্তি সনদরাষ্ট্রীয় পুলিশ পদকের স্বীকৃতি পাচ্ছেন বাবুল আজাদ কঠিন সময়ে পাহাড়তলী থেকে ডবলমুরিং, চকবাজার হয়ে ডিবিতে; সাহস, মেধা ও পেশাদারিত্বে উজ্জ্বল এক পুলিশ কর্মকর্তার পথচলা-জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও নিত্যপণ্যের বাজারে বড় প্রভাব পড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রীসতীশ বাবু লেইনের ভাইরাল ছিনতাই: মূলহোতা সাদ্দাম গ্রেফতারআন্তর্জাতিক মানদণ্ডে মানবিক পুলিশিংয়ের নতুন দিগন্ত আইসিআরসি ও এপিবিএনের যৌথ প্রশিক্ষণ: আইন প্রয়োগে মানবাধিকার, পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহিতায় হাসিব আজিজের নেতৃত্বে নতুন ভাবনাআমার ছেলেবেলা ৬ সেই রাতগুলো আজও মনে পড়েএপিবিএন: ইতিহাসের অগ্রযাত্রায় জিয়াউর রহমান থেকে আজিজুল হক, আজিজুল হক থেকে হাসিব আজিজ একটি বাহিনীর জন্ম, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ভাবনার বিবর্তন, দুই প্রজন্মের নেতৃত্ব এবং জননিরাপত্তার নতুন অঙ্গীকারবৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের মহানগর কমিটির প্রথম সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত কালুরঘাট সেতু নির্মাণ, সিটি করপোরেশন নির্বাচন, জলাবদ্ধতা ও যানজট নিরসনসহ ১০ দফা নাগরিক ইস্যুতে কর্মসূচি গ্রহণের সিদ্ধান্তচট্টগ্রাম মেডিকেলে ইউনিট-২ চালুসহ ডেঙ্গু চিকিৎসা নিশ্চিতের দাবি পরিচালকের সঙ্গে বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের মতবিনিময় রোগী হয়রানি ও দালালচক্র বন্ধ, জনবল বৃদ্ধি এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম সচলের ওপর জোরযেসব কারণে বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

― Advertisement ―

চট্টলবন্ধু এস. এম. জামাল উদ্দিনের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

Homeচট্টগ্রামচট্টলবন্ধু এস. এম. জামাল উদ্দিনের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

কবর জিয়ারত, ফুলেল শ্রদ্ধাঞ্জলি ও শাহ আমানত (রহ.) মাজারে দোয়া মাহফিলে উন্নয়ন আন্দোলনের কিংবদন্তিকে স্মরণ

চট্টগ্রামের ইতিহাস, ঐতিহ্য, উন্নয়ন ও গণমানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের এক অবিস্মরণীয় নাম বীর মুক্তিযোদ্ধা, সমাজসেবক, জননেতা এবং বৃহত্তর চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব চট্টলবন্ধু এস. এম. জামাল উদ্দিন। তাঁর ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১৮ জুলাই গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও মর্যাদার সঙ্গে পালন করেছে চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম এবং বৃহত্তর চট্টগ্রাম উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটি। এ উপলক্ষে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের মহাসচিব ও বৃহত্তর চট্টগ্রাম উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মো. কামাল উদ্দিন।সকালে নেতাকর্মীরা হাটহাজারী উপজেলার মাদার্শা গ্রামে মরহুমের পারিবারিক কবরস্থানে সমবেত হন। সেখানে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, কবর জিয়ারত, পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। উপস্থিত সবাই এক মিনিট নীরবতা পালন করে এই মহান নেতার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
এ সময় বক্তারা বলেন, এস. এম. জামাল উদ্দিন ছিলেন এমন একজন মানুষ, যিনি নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে বৃহত্তর চট্টগ্রামের স্বার্থকে সবসময় অগ্রাধিকার দিয়েছেন। রাজনীতি, সমাজসেবা, শ্রমিক আন্দোলন এবং উন্নয়ন সংগ্রামের প্রতিটি অধ্যায়ে তিনি ছিলেন সাহসী, নির্ভীক ও আপসহীন। কবর জিয়ারত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এস. এম. ফরহাদ আলী, মো. আলী রিপন, জাফর, মোহাম্মদ নুর, হারুন, মো. নুরুল হুদা চৌধুরী, দেবু প্রসাদ দেবু, মো. জসিম চৌধুরী, জিকু, মো. বশির, পারভেজ, রাশেলসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। বিকেলে বাদ আসর ঐতিহাসিক হযরত শাহ আমানত শাহ (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণে এক হৃদয়স্পর্শী দোয়া ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মরহুম এস. এম. জামাল উদ্দিনের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। উপস্থিত নেতৃবৃন্দ তাঁর কর্মময় জীবনের নানা স্মৃতিচারণ করেন। অনুষ্ঠানে পাঠ করা লন্ডনপ্রবাসী চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেনের এক বার্তায় বলা হয়— “এস. এম. জামাল উদ্দিন ছিলেন চট্টগ্রামের মানুষের হৃদয়ের মানুষ। তিনি ছিলেন সংগ্রামী রাজনীতির প্রতীক, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারক এবং উন্নয়ন আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ। তাঁর নেতৃত্ব, সততা, দেশপ্রেম ও ত্যাগ আজও আমাদের অনুপ্রাণিত করে। বৃহত্তর চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য তাঁর যে স্বপ্ন ছিল, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই আমরা তাঁর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানাতে পারি।”


ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন আরও বলেন, আজকের প্রজন্মের কাছে এস. এম. জামাল উদ্দিনের জীবনাদর্শ তুলে ধরা প্রয়োজন। কারণ তিনি ছিলেন এমন একজন নেতা, যিনি ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের কল্যাণের জন্য রাজনীতি করেছেন। স্মরণসভায় বক্তারা বলেন, বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা আন্দোলন থেকে শুরু করে মহান মুক্তিযুদ্ধ, শ্রমিক আন্দোলন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং চট্টগ্রামের উন্নয়ন আন্দোলনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে এস. এম. জামাল উদ্দিনের অবদান ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তিনি ছিলেন চট্টগ্রামের মানুষের আস্থার প্রতীক এবং উন্নয়ন আন্দোলনের অবিসংবাদিত কণ্ঠস্বর। মহাসচিব মো. কামাল উদ্দিন তাঁর বক্তব্যে বলেন, “চট্টলবন্ধু এস. এম. জামাল উদ্দিন ছিলেন আমাদের পথপ্রদর্শক। তাঁর আদর্শ, সততা, দেশপ্রেম এবং চট্টগ্রামপ্রেম আমাদের সবসময় অনুপ্রাণিত করবে। আমরা তাঁর স্বপ্নের উন্নত, সমৃদ্ধ ও আধুনিক চট্টগ্রাম গড়ার আন্দোলন অব্যাহত রাখবো।”


দিনব্যাপী কর্মসূচি শেষে উপস্থিত সবাই মরহুমের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তাঁর আদর্শ বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
চট্টগ্রামের উন্নয়ন সংগ্রামের ইতিহাসে এস. এম. জামাল উদ্দিন একটি উজ্জ্বল অধ্যায়ের নাম। সময়ের পরিক্রমায় মানুষ চলে যায়, কিন্তু তাঁদের কর্ম, আদর্শ ও অবদান বেঁচে থাকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে। চট্টলবন্ধু এস. এম. জামাল উদ্দিনও তেমনি এক অমর ব্যক্তিত্ব, যাঁর স্মৃতি চট্টগ্রামবাসীর হৃদয়ে চিরদিন অম্লান হয়ে থাকবে।