শিরোনাম
জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও নিত্যপণ্যের বাজারে বড় প্রভাব পড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রীসতীশ বাবু লেইনের ভাইরাল ছিনতাই: মূলহোতা সাদ্দাম গ্রেফতারআন্তর্জাতিক মানদণ্ডে মানবিক পুলিশিংয়ের নতুন দিগন্ত আইসিআরসি ও এপিবিএনের যৌথ প্রশিক্ষণ: আইন প্রয়োগে মানবাধিকার, পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহিতায় হাসিব আজিজের নেতৃত্বে নতুন ভাবনাআমার ছেলেবেলা ৬ সেই রাতগুলো আজও মনে পড়েএপিবিএন: ইতিহাসের অগ্রযাত্রায় জিয়াউর রহমান থেকে আজিজুল হক, আজিজুল হক থেকে হাসিব আজিজ একটি বাহিনীর জন্ম, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ভাবনার বিবর্তন, দুই প্রজন্মের নেতৃত্ব এবং জননিরাপত্তার নতুন অঙ্গীকারবৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের মহানগর কমিটির প্রথম সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত কালুরঘাট সেতু নির্মাণ, সিটি করপোরেশন নির্বাচন, জলাবদ্ধতা ও যানজট নিরসনসহ ১০ দফা নাগরিক ইস্যুতে কর্মসূচি গ্রহণের সিদ্ধান্তচট্টগ্রাম মেডিকেলে ইউনিট-২ চালুসহ ডেঙ্গু চিকিৎসা নিশ্চিতের দাবি পরিচালকের সঙ্গে বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের মতবিনিময় রোগী হয়রানি ও দালালচক্র বন্ধ, জনবল বৃদ্ধি এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম সচলের ওপর জোরযেসব কারণে বাড়ল জ্বালানি তেলের দামহামের উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১ হাজার ৩০৫“ইউনিফর্মের আড়ালে যে মানুষটিকে আমি দেখেছি জাহিদুল কবির—কঠোর দায়িত্বের ভেতরে নরম এক হৃদয়ের গল্প-

― Advertisement ―

জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও নিত্যপণ্যের বাজারে বড় প্রভাব পড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে...

প্রাসাদবন্দি রাষ্ট্রপ্রধানের আর্তনাদ: সংবিধান, সম্মান ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদার দেড় বছরের ঝড়”প্রাসাদের প্রাচীরে জমে থাকা ঝড়

Homeসম্পাদকীয়প্রাসাদবন্দি রাষ্ট্রপ্রধানের আর্তনাদ: সংবিধান, সম্মান ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদার দেড় বছরের ঝড়”প্রাসাদের প্রাচীরে...

-মো.কামাল উদ্দিনঃ রাষ্ট্রের ইতিহাসে এমন সময় আসে, যখন নীরবতা শব্দের চেয়ে বেশি উচ্চকিত হয়ে ওঠে। প্রাসাদের উঁচু প্রাচীর, প্রহরীর কড়া নজর, আনুষ্ঠানিকতার কঠোরতা—সবকিছুর আড়ালে জমে থাকে অদৃশ্য চাপ, অপ্রকাশ্য দহন, প্রাতিষ্ঠানিক অস্বস্তি। বঙ্গভবন—বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন—একসময় যেন হয়ে উঠেছিল এমনই এক নীরব অগ্নিগর্ভ স্থান। বাইরে রাজনৈতিক স্লোগান, ভেতরে সংবিধানের শপথ। বাইরে অপসারণের দাবি, ভেতরে ধারাবাহিকতা রক্ষার সংকল্প। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর একান্ত সাক্ষাৎকারে যে সময়ের কথা তুলে ধরেছেন, তা নিছক ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নয়; তা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামোর স্থিতিস্থাপকতা ও সংকটের একটি দলিল। টানা দেড় বছর তিনি দাবি করেছেন—তাঁকে আলোচনার বাইরে রাখা হয়েছে, সিদ্ধান্ত থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে, এমনকি অসাংবিধানিক উপায়ে তাঁকে অপসারণের চেষ্টা হয়েছে। এই অভিযোগের গুরুত্ব কেবল রাজনৈতিক নয়; এটি রাষ্ট্রীয় নৈতিকতার প্রশ্ন। রাষ্ট্রপতি: ব্যক্তি নন, প্রতীক
গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে রাষ্ট্রপতি কেবল একটি পদবী নয়; এটি রাষ্ট্রের প্রতীকী কেন্দ্রবিন্দু। সংবিধানের ভাষায় তিনি রাষ্ট্রের প্রধান, সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক, রাষ্ট্রীয় শপথের রক্ষক। তিনি নির্বাহী ক্ষমতার দৈনন্দিন প্রয়োগে সক্রিয় নাও থাকতে পারেন; কিন্তু তাঁর অবস্থান সাংবিধানিক ভারসাম্যের প্রতীক। সেই ভারসাম্য নষ্ট হলে পুরো কাঠামোতে কম্পন সৃষ্টি হয়। রাষ্ট্রপতি বলেছেন “রক্ত ঝরে ঝরুক, আমি সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করব।” এই বাক্যে আবেগ আছে, কিন্তু তার চেয়েও বেশি আছে দায়িত্ববোধের ঘোষণা। একজন রাষ্ট্রপ্রধান যদি অনুভব করেন যে তাঁকে ঘিরে অপসারণের ষড়যন্ত্র চলছে, তবু তিনি পদত্যাগ না করে সংবিধানের পথেই অবিচল থাকেন—তাহলে তা তাঁর ব্যক্তিগত সাহসের পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিরোধেরও ইঙ্গিত।অপসারণ চেষ্টা ও রাজনৈতিক চাপ রাষ্ট্রপতির বক্তব্য অনুযায়ী, গণ-অভ্যুত্থানের কিছু নেতার চাপ, রাজনৈতিক আলাপ-আলোচনা, এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতর থেকেও তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বলা হয়েছে—যদি রাজনৈতিক দলগুলোর সংখ্যাগরিষ্ঠ মত আসে, তবে তাঁকে অপসারণ করা যেতে পারে—এমন এক মনস্তাত্ত্বিক চাপের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। এখানে প্রশ্ন জাগে—রাষ্ট্রপতির অপসারণ কি কেবল রাজনৈতিক সমীকরণের বিষয়? সংবিধান রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের প্রক্রিয়া নির্ধারণ করেছে। সেই নির্ধারিত পথের বাইরে গিয়ে যদি কোনো “হেস্তনেস্ত” করার মানসিকতা জন্ম নেয়, তবে তা গণতান্ত্রিক পরিপক্বতার ঘাটতির লক্ষণ। রাষ্ট্রপতি আরও অভিযোগ করেছেন—একজন সাবেক প্রধান বিচারপতিকে এনে অসাংবিধানিক ভাবে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করার চেষ্টা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট বিচারপতির অনাগ্রহে তা নাকি ব্যর্থ হয়। এই দাবি সত্য হলে তা অত্যন্ত গুরুতর; কারণ বিচার বিভাগের একজন সাবেক প্রধানকে এভাবে রাজনৈতিক সমীকরণে ব্যবহার করার চিন্তাই সাংবিধানিক শালীনতার পরিপন্থী। সমন্বয়ের অভাব ও নীরব অবরোধ রাষ্ট্রপতি বলেছেন, প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্বে থাকা মুহাম্মদ ইউনূস তাঁর সঙ্গে প্রত্যাশিত প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় করেননি। বিদেশ সফর শেষে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করা, গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সম্পর্কে লিখিত প্রতিবেদন দেওয়া—এসব সংবিধানসম্মত রীতি। তিনি দাবি করেছেন, বহুবার বিদেশ সফর হলেও তাঁকে অবহিত করা হয়নি। এমনকি আন্তর্জাতিক আমন্ত্রণ—কসোভোতে কি-নোট পেপার পাঠ, কাতারে সামিটে ভাষণ—এসবেও তাঁকে যেতে দেওয়া হয়নি। তাঁর কাছে একটি প্রত্যাখ্যানপত্র পাঠানো হয়, যাতে লেখা—তিনি রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যস্ত। রাষ্ট্রপতি প্রশ্ন তুলেছেন—সংবিধানিক কাঠামোয় একজন রাষ্ট্রপতি কি এত ব্যস্ত থাকেন যে আন্তর্জাতিক মঞ্চে রাষ্ট্রকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন না? এখানে বিষয়টি কেবল সফর-অনুমতির নয়; এটি প্রতীকী উপস্থিতির প্রশ্ন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাষ্ট্রপতির অংশগ্রহণ মানে রাষ্ট্রের সার্বভৌম মর্যাদার প্রতিফলন। সেটি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে সীমিত করা হয়, তবে তা রাজনৈতিক কৌশল হতে পারে, কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক সৌজন্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। প্রতিকৃতি অপসারণ: প্রতীকের ভাষায় বার্তা সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগ—বিদেশস্থ বাংলাদেশি হাইকমিশন ও কনস্যুলেটগুলো থেকে রাষ্ট্রপতির প্রতিকৃতি সরিয়ে ফেলা। বহু বছরের প্রথা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ছবি রাষ্ট্রীয় মিশনে প্রদর্শিত হয়। কারণ রাষ্ট্রপতি স্টেটকে রিপ্রেজেন্ট করেন। সেটি যদি রাতারাতি তুলে ফেলা হয়, তবে তা একটি প্রতীকী বার্তা বহন করে—রাষ্ট্র তার প্রধানকে দৃশ্যমান রাখতে চায় না। প্রতীক কখনো তুচ্ছ নয়। পতাকা, জাতীয় সংগীত, প্রতিকৃতি—এসবই রাষ্ট্রীয় চেতনার বাহক। একটি প্রতিকৃতি সরিয়ে দেওয়া মানে হয়তো একটি ফ্রেম নামানো; কিন্তু তার ভেতরে লুকিয়ে থাকে একটি অবস্থান। জনগণ তখন প্রশ্ন করে—এটি কি অপসারণের পূর্বাভাস? প্রেস উইং প্রত্যাহার ও কণ্ঠরোধ রাষ্ট্রপতির অভিযোগ—বঙ্গভবনের প্রেস উইং প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে; প্রেস রিলিজ দেওয়ার ক্ষমতাও কার্যত বন্ধ করা হয়েছে। জাতীয় দিবসে রাষ্ট্রপতির বাণী প্রকাশ বন্ধ, সাংবাদিকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের জেরে কর্মকর্তাদের অপসারণ—এসব ঘটনা তাঁকে “প্রতিবন্ধী” করে রাখার প্রচেষ্টা বলে মনে হয়েছে। গণতন্ত্রে প্রতীকী পদগুলোরও কণ্ঠ থাকে। সেই কণ্ঠ যদি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে রুদ্ধ করা হয়, তবে তা স্বচ্ছতার পরিপন্থী। রাষ্ট্রপতির বক্তব্য জনগণের কাছে পৌঁছাবে কি না, সেটি রাজনৈতিক বিবেচনায় নির্ধারিত হওয়া উচিত নয়। নিরাপত্তা, অবরোধ ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ বঙ্গভবন ঘেরাও, বিক্ষোভ, অপসারণের স্লোগান—এসবও সেই দেড় বছরের অংশ। রাষ্ট্রপতি বলেছেন—তিন স্তরের নিরাপত্তা দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়েছে; সশস্ত্র বাহিনী তাঁকে মনোবল জুগিয়েছে। একজন রাষ্ট্রপতির জন্য এমন পরিস্থিতি নিছক রাজনৈতিক ঘটনা নয়; এটি মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ। তিনি উল্লেখ করেছেন—“আমার রক্ত ঝরে যাবে, তবু পালাব না।” এটি হয়তো এক ধরনের প্রতিরোধী ঘোষণা; কিন্তু তার ভেতরে আছে এক গভীর সংকটের ইঙ্গিত—রাষ্ট্রের শীর্ষ পদ যদি নিজেকে নিরাপত্তাহীন বা কোণঠাসা অনুভব করে, তবে তা প্রজাতন্ত্রের স্থিতিশীলতার জন্য শুভ নয়। সাংবিধানিক শালীনতা ও জবাবদিহি এই পুরো ঘটনাপ্রবাহ আমাদের সামনে একটি বড় প্রশ্ন তোলে—সংবিধান কি কেবল একটি বই, নাকি এটি একটি জীবন্ত চুক্তি? রাষ্ট্রের প্রতিটি পদ, প্রতিটি শপথ, প্রতিটি প্রটোকল—এসবই সেই চুক্তির অংশ। যদি কোনো পক্ষ মনে করে রাজনৈতিক প্রয়োজনের তাগিদে প্রাতিষ্ঠানিক শিষ্টাচার উপেক্ষা করা যায়, তবে তা ভবিষ্যতে বিপজ্জনক নজির হয়ে দাঁড়ায়। রাষ্ট্রপতি বলেছেন—কূটনৈতিক মহলও অসাংবিধানিক অপসারণের বিপক্ষে ছিল। কিছু রাজনৈতিক দলও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় অবস্থান নিয়েছিল। কিন্তু প্রশ্ন হলো—রাষ্ট্রীয় স্থিতি কি বাহ্যিক সমর্থনের ওপর নির্ভর করবে, নাকি প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মের ওপর? যদি সত্যিই সংবিধান লঙ্ঘনের চেষ্টা হয়ে থাকে, তবে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ অনুসন্ধান প্রয়োজন। তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সমন্বয় না করা কি সংবিধানবিরোধী ছিল? বিদেশ সফর ও আমন্ত্রণ আটকে দেওয়া কি প্রটোকল লঙ্ঘন? প্রতিকৃতি অপসারণ কি প্রাতিষ্ঠানিক অবমাননা? অসাংবিধানিক অপসারণচেষ্টা হয়েছে কি না? প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আইন সবার ঊর্ধ্বে—এটি কেবল স্লোগান নয়; এটি গণতন্ত্রের ভিত্তি। ইতিহাসের আয়নায় ইতিহাসে বহুবার দেখা গেছে—প্রতীকী পদকে দুর্বল করে ক্ষমতার কেন্দ্রকে শক্তিশালী করার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে সেই কৌশল টেকেনি। কারণ রাষ্ট্র কেবল ক্ষমতার সমষ্টি নয়; এটি বিশ্বাসের কাঠামো। জনগণ বিশ্বাস করে যে সংবিধান তাদের অধিকার রক্ষা করবে; রাষ্ট্রের শীর্ষ পদগুলো সেই বিশ্বাসের প্রহরী। রাষ্ট্রপতির এই সাক্ষাৎকার তাই ব্যক্তিগত ক্ষোভের বিবরণ হিসেবে পড়লে ভুল হবে। এটি একটি সময়ের প্রতিচ্ছবি—যেখানে রাজনৈতিক অস্থিরতা, ক্ষমতার পুনর্বিন্যাস, প্রাতিষ্ঠানিক অনিশ্চয়তা সব মিলিয়ে এক উত্তাল অধ্যায় রচিত হয়েছে। ন্যায়, সত্য ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা রাষ্ট্রপতি ব্যক্তি মো. সাহাবুদ্দিন হয়তো সময়ের প্রবাহে একদিন ইতিহাসের চরিত্র হয়ে যাবেন। কিন্তু রাষ্ট্রপতির পদ, সংবিধানের মর্যাদা, প্রাতিষ্ঠানিক শালীনতা—এসব চিরস্থায়ী মূল্যবোধ। যদি কোনো সময় সেই মূল্যবোধ ক্ষুণ্ন হয়ে থাকে, তবে তার সত্য উদ্ঘাটন জরুরি। ড. ইউনূসসহ সংশ্লিষ্ট যে কেউ—যদি প্রমাণিত হয় যে অসাংবিধানিক উদ্যোগে যুক্ত ছিলেন—তাঁদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত। আবার যদি অভিযোগ প্রমাণিত না হয়, তবে রাষ্ট্রপতির বক্তব্যও সমালোচনামূলক পর্যালোচনার দাবি রাখে। গণতন্ত্রে কেউ প্রশ্নাতীত নন; কেউ দায়মুক্তও নন। প্রাসাদের নীরবতা একদিন ভেঙে যায়। কিন্তু সংবিধানের মর্যাদা যদি ভেঙে যায়, তা জোড়া লাগাতে সময় লাগে প্রজন্মের পর প্রজন্ম। তাই এখন প্রয়োজন উত্তেজনা নয়, প্রাতিষ্ঠানিক ন্যায়বিচার; প্রতিহিংসা নয়, সত্যের অনুসন্ধান। রাষ্ট্রপতির রুদ্ধ সময়ের এই কাহিনি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—গণতন্ত্রের শক্তি কেবল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় নয়; তা নিহিত থাকে সংবিধানের প্রতি আনুগত্যে, পদমর্যাদার প্রতি সম্মানে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতীকের মর্যাদা রক্ষায়। যদি আমরা সেই মূল্যবোধ অটুট রাখতে পারি, তবে প্রাসাদের দেয়ালে জমে থাকা ঝড়ও একদিন ইতিহাসের পাতায় শান্ত হয়ে যাবে।