― Advertisement ―

প্রজ্ঞানন্দ স্মৃতি সংসদের বর্ষবরণ ও গুনীজন সংবর্ধনা সম্পন্ন

স ম জিয়াউর রহমান, চট্টগ্রাম থেকে : রাউজান উপজেলার পুর্বআবুরখীল তালুকদারপাড়ায় অবস্থিত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রজ্ঞানন্দ স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে নববর্ষ বরণ, গুনীজন সংবর্ধনা ও...

রিয়াজ হায়দার চৌধুরী: চট্টগ্রামের সাংবাদিকতার সাহস, শুদ্ধতা ও সংগঠনের পুনর্জাগরণের এক আলোকস্তম্ভ-

Homeসম্পাদকীয়রিয়াজ হায়দার চৌধুরী: চট্টগ্রামের সাংবাদিকতার সাহস, শুদ্ধতা ও সংগঠনের পুনর্জাগরণের এক আলোকস্তম্ভ-

মো. কামাল উদ্দিনঃ রিয়াজ হায়দার চৌধুরী—এই নামটি আজ চট্টগ্রামের সাংবাদিক সমাজে কেবল একজন ব্যক্তির পরিচয় নয়; এটি এক ধারাবাহিক সংগ্রামের ইতিহাস, এক নৈতিক অবস্থানের দৃঢ়তা এবং এক অবিচল নেতৃত্বের প্রতীক। নব্বই দশক থেকে তার পথচলা আমি কাছ থেকে দেখেছি। সময় বদলেছে, ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে, সংবাদমাধ্যমের চরিত্র পাল্টেছে; কিন্তু তিনি বদলাননি। তার বিশ্বাস, তার অবস্থান, তার দায়বদ্ধতা—সবকিছুতেই রয়েছে এক অদম্য ধারাবাহিকতা। সাংবাদিকতা তার কাছে চাকরি নয়, বরং একটি নৈতিক অঙ্গীকার। সমাজের সামনে সত্যকে তুলে ধরার যে দায়, সেই দায়বোধই তাকে বারবার সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন—সাংবাদিকের কলম যদি নীরব হয়, তবে অন্যায় শক্তিশালী হয়ে ওঠে; সাংবাদিকের কণ্ঠ যদি ভীত হয়, তবে সমাজ অন্ধকারে ডুবে যায়। শেকড় থেকে উঠে আসা এক দৃঢ় ব্যক্তিত্ব রিয়াজ হায়দার চৌধুরীর ব্যক্তিত্বের ভিত গড়ে উঠেছে পরিবার ও মূল্যবোধের মাটিতে। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। স্বাধীনতার চেতনা, ন্যায়বোধ, আপসহীনতা—এই গুণগুলো তার রক্তে মিশে আছে। তার সাংবাদিকতায় এই চেতনার প্রতিফলন স্পষ্ট। সত্যের প্রশ্নে তিনি কখনো আপস করেননি। ব্যক্তিগত লাভ-লোকসান নয়, তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন নীতিকে। পেশাগত যাত্রা: স্থানীয় সংবাদকক্ষ থেকে জাতীয় পরিসর তার সাংবাদিকতার সূচনা চট্টগ্রামের স্থানীয় দৈনিক পূর্বকোণে সিনিয়র রিপোর্টার হিসেবে। সংবাদ সংগ্রহ, অনুসন্ধান, মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা—এসবের সঙ্গে তার নিবিড় পরিচয় সেখান থেকেই। পরবর্তীতে তিনি একুশে টেলিভিশন, যমুনা টেলিভিশন, নিউজ টুয়েন্টিফোর এবং আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে কাজ করেছেন। প্রতিটি জায়গায় তার পরিচয় ছিল একজন অনুসন্ধানী ও দায়িত্বশীল সাংবাদিক হিসেবে। দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের বিশেষ প্রতিনিধি ও চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি এমন বহু প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন, যা শুধু সংবাদ নয় সমাজের বিবেককে নাড়া দিয়েছে। তার প্রতিবেদনে থাকে তথ্যের দৃঢ়তা, ভাষার সংযম এবং যুক্তির শক্তি। প্রতিকূলতা তার জীবনে নতুন নয়। চাকরি হারানোর মতো কঠিন অভিজ্ঞতাও এসেছে। কিন্তু তিনি থেমে থাকেননি। বরং প্রতিটি সংকট তাকে আরও শক্তিশালী করেছে। তিনি প্রমাণ করেছেন—সাংবাদিকের শক্তি পদবি নয়, তার সততা ও দক্ষতা। উন্নয়ন আন্দোলনে সক্রিয় উপস্থিতি চট্টগ্রামের উন্নয়ন ইস্যুতে তিনি সবসময় ছিলেন সরব। বৃহত্তর চট্টগ্রাম উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটি ও চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের নানা কর্মসূচিতে তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। ২০১৯ সালে ঢাকায় চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসন নিয়ে যে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে তিনি তথ্য-উপাত্তসহ চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের অবহেলার চিত্র তুলে ধরেন। তার বক্তব্যে ছিল বাস্তবতার নির্ভুল বিশ্লেষণ। তিনি বিশ্বাস করেন—সাংবাদিক কেবল পর্যবেক্ষক নন; তিনি সমাজের দায়বদ্ধ নাগরিকও।  ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন-এর সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়ে তিনি সংগঠনকে নতুন উদ্যমে এগিয়ে নিচ্ছেন। সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক থেকে শুরু করে দুইবার সভাপতি—প্রতিটি ধাপে তার নেতৃত্ব সংগঠনকে দিয়েছে স্থিতি ও শক্তি। জাতীয় পর্যায়েও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-এর সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি সাংবাদিকদের ন্যায্য বেতন, নিরাপত্তা ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করতে সোচ্চার ছিলেন। তার নেতৃত্বের মূল দর্শন—ঐক্য ও সংলাপ। তিনি বিশ্বাস করেন, সংগঠন টিকে থাকে মতভেদ সত্ত্বেও সম্মিলিত লক্ষ্যের কারণে। অফিস পুনরুদ্ধারের লড়াই: সম্মানের প্রশ্ন বর্তমানে তার নেতৃত্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু—চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের নিজস্ব অফিস পুনরুদ্ধার। একটি স্বার্থান্বেষী মহলের সিদ্ধান্তে অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে কর্মরত সাংবাদিকরা সংগঠনের নির্দিষ্ট ঠিকানা থেকে বঞ্চিত। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন “প্রেসক্লাব নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে মত থাকতে পারে। কিন্তু সাংবাদিক ইউনিয়নের অফিস সম্পূর্ণ আলাদা সাংগঠনিক সত্তা। এটি বন্ধ করে রাখা মানে সাংবাদিকদের মৌলিক অধিকার হরণ করা।” তার মতে, একটি সংগঠনের অফিস শুধু একটি কক্ষ নয়; এটি ঐক্যের প্রতীক, অধিকার আদায়ের কেন্দ্র এবং পেশাগত নিরাপত্তার আশ্রয়। আজ যখন সাংবাদিকরা রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াতে বাধ্য হচ্ছেন, তখন এটি শুধু প্রশাসনিক জটিলতা নয়—এটি মর্যাদাহানির সামিল। তিনি চট্টগ্রামের সকল সাংবাদিক, শুভানুধ্যায়ী ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন। তার লক্ষ্য—সংঘাত নয়, সমাধান; বিভাজন নয়, ঐক্য। ‘শ্রেষ্ঠ সংগঠক’ হিসেবে স্বীকৃতি ২০২০ সালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন তাকে ‘শ্রেষ্ঠ সংগঠক’ হিসেবে একুশে পদকে সম্মানিত করে। এটি তার দীর্ঘ কর্মময় জীবনের সামাজিক স্বীকৃতি। পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তিনি বিভিন্ন পেশার মানুষকে একত্রিত করেছেন এক প্ল্যাটফর্মে। মঞ্চ ও টকশোর প্রজ্ঞা চট্টগ্রাম থেকে প্রথম প্রাত্যহিক টিভি টকশো চালুর মাধ্যমে তিনি স্থানীয় গণমাধ্যমে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেন। তার আলোচনায় থাকে প্রেক্ষাপট, বিশ্লেষণ ও সমাধানের পথনির্দেশ। তিনি কেবল প্রশ্ন তোলেন না; তিনি দিকনির্দেশনাও দেন। তরুণ সাংবাদিকদের জন্য প্রেরণা তিনি বিশ্বাস করেন—সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তরুণদের নৈতিকতা ও দক্ষতার ওপর। তাই প্রশিক্ষণ, কর্মশালা ও নৈতিক চর্চাকে গুরুত্ব দেন। তার কাছে সাংবাদিকতা মানে দায়িত্বশীলতা, তথ্যনির্ভরতা ও মানবিকতা। ভবিষ্যতের রূপরেখা নতুন মেয়াদে তার অঙ্গীকার স্পষ্ট সংগঠনের অফিস পুনরুদ্ধার  সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পেশাগত মর্যাদা রক্ষা সংগঠনকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করা
ঐক্যবদ্ধ সাংবাদিক সমাজ গড়ে তোলা রিয়াজ হায়দার চৌধুরী একাধারে সাংবাদিক, সংগঠক ও সাহসী নেতা। তার নেতৃত্বে চট্টগ্রামের সাংবাদিকতা শুধু পেশা হিসেবে নয়, নৈতিক শক্তি হিসেবে আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে—এটাই আজ সকলের প্রত্যাশা। তিনি প্রমাণ করেছেন—সত্যের পথ কঠিন, কিন্তু সেই পথেই রয়েছে সম্মান। চট্টগ্রামের সাংবাদিকতার আকাশে তিনি নিঃসন্দেহে এক দীপ্ত নক্ষত্র, যার আলো আগামী প্রজন্মকে