সাংবাদিক’ পরিচয়ে চাঁদা দাবি—মিরপুরে হাতেনাতে গ্রেপ্তার ১

0
160

মিরপুরে ভুয়া ‘সাংবাদিক’ সেজে ভয়ভীতি ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করার অভিযোগে জাহাঙ্গীর আলম নামে এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে দারুসসালাম থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) তাকে আটক করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার এসআই আজিজুল হক। জানা যায়, গত ৭ ও ৮ ডিসেম্বর ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের কয়েকজন কর্মকর্তার মোবাইলে অজ্ঞাত নম্বর থেকে কল আসে। নিজেদের ‘সাংবাদিক’ পরিচয় দিয়ে কলদাতারা জানান, প্রতিষ্ঠানটি সরকারি প্রকল্পে কাজ করছে—এ সুযোগে তারা মাসিক চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে ‘ভুয়া রিপোর্ট’ প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট করার হুমকি দেয় প্রতারকরা। এর পরদিন মঙ্গলবার প্রতারক চক্রের কয়েকজন সদস্য কল্যাণপুরের খাজা সুপার মার্কেটে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানের অফিসে গিয়ে সরাসরি ২০ লাখ টাকা দাবি করে এবং প্রকল্প নিয়ে মিথ্যা অভিযোগ তুলে ধরার ভয় দেখায়। কৌশলে কর্মকর্তারা চক্রের একজন সদস্যকে ‘চূড়ান্ত আলোচনা’ করার কথা বলে অফিসে ডাকেন। নির্ধারিত সময়ে মো. জাহাঙ্গীর আলম সেখানে পৌঁছালে আগেই প্রস্তুত থাকা পুলিশ তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার হওয়ার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জাহাঙ্গীর আলম চাঁদাবাজির বিষয়টি স্বীকার করেছে। ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতারক চক্রটির কল রেকর্ডসহ বিভিন্ন প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে, যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দেওয়া হয়েছে। তারা বলেন, “আমরা আইনের প্রতি আস্থাশীল, এ চক্রের সব সদস্যের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” প্রতিষ্ঠানটির সহকারী ব্যবস্থাপক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, কয়েক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়ায় মিথ্যা সংবাদ ছড়ানো, ফোনে হুমকি ও ব্ল্যাকমেইল করে টাকা আদায় করার চেষ্টা করছিল প্রতারকরা। এ ঘটনায় জাহাঙ্গীর আলম, মো. মেছমাউল আলম মোহন, খাদিজা আক্তার পূর্ণী, এস এম মোরশেদ, আব্দুর রহমান সজীব, রূপক ও মীর আনিসসহ আরও ২০–২৫ জন অজ্ঞাতনামার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। দারুসসালাম থানার এসআই বলেন, “এটি একটি সংঘবদ্ধ প্রতারণা ও চাঁদাবাজ চক্র। গ্রেপ্তার আসামি ঘটনাটি স্বীকার করেছে। মামলার অন্যান্য অভিযুক্তদেরও দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here