
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’র নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছে ইরান। তুরস্কের আনতালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরাম-এর পার্শ্ববৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহ-এর বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। সোমবার (২০ এপ্রিল) এক বিজ্ঞপ্তিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করে। বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজের চলাচল সহজ করতে ইরানের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, অতীতে হরমুজ প্রণালি পারাপারের অনুমতিপ্রাপ্ত ছয় দেশের তালিকায় বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করায় ইরানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছিল বাংলাদেশ। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাঈদ খাতিবজাদেহ বিষয়টি দ্রুত সংশ্লিষ্ট দপ্তরে উত্থাপন করেন। পরে রোববার রাতে তিনি বাংলাদেশকে জানান, বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে উভয় দেশের প্রতিনিধিরা উপসাগরীয় অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান অস্থিতিশীলতা এবং দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। খলিলুর রহমান মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিয়ে বাংলাদেশের ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানের কথা তুলে ধরে বলেন, আঞ্চলিক শান্তি রক্ষায় সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শন করতে হবে এবং মতপার্থক্য নিরসনে সংলাপ ও কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। বাংলাদেশের এই শান্তিপূর্ণ অবস্থানের প্রশংসা করে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সুবিধাজনক সময়ে ঢাকার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে তেহরান সফরের আমন্ত্রণ জানান। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জলসীমায় বাংলাদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি-তে বিভিন্ন দেশের জাহাজে হামলার ঘটনার পর এই রুট নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে। ইরানের নতুন এই নির্দেশনার ফলে ‘বাংলার জয়যাত্রা’সহ অন্যান্য বাংলাদেশি জাহাজের চলাচল আরও নির্বিঘ্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার বিষয়ে একমত হয়েছে দুই দেশ।

