
অযৌক্তিকভাবে ফিড, মুরগির বাচ্চা ও ওষুধের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে সাত দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ)। সংগঠনটি জানিয়েছে, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দাবি না মানা হলে ১ নভেম্বর থেকে সারা দেশের প্রান্তিক খামারিরা পর্যায়ক্রমে খামার বন্ধ করে ডিম-মুরগি উৎপাদন স্থগিত করবে। শনিবার রাজধানীর পল্টনের ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিপিএ সভাপতি সুমন হাওলাদার এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, “সরকার যদি আমাদের সাত দফা দাবি না মেনে চলে, আমরা বাধ্য হয়ে উৎপাদন বন্ধ রাখব। দাবি না মানা পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে।” সুমন হাওলাদার অভিযোগ করেন, দেশের মোট ডিম-মুরগি উৎপাদনের ৮০ শতাংশ করে প্রান্তিক খামারিরা, অথচ নীতিনির্ধারণে তাদের কোনো অংশগ্রহণ নেই। কিছু করপোরেট কোম্পানির সিদ্ধান্তে তাদের ওপর বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়, যার ফলে হাজার হাজার খামারি ইতিমধ্যে ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, “ভারতে একটি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৫ টাকায়, আর মুরগি ৮০–৯০ টাকায়। কিন্তু বাংলাদেশে ডিম বিক্রি হয় ১০ টাকায়, মুরগি ১৫০–১৬৫ টাকায়। এর পেছনে আছে করপোরেট স্বার্থ আর সরকারের দুর্বল নজরদারি।” বিপিএ সভাপতির মতে, ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের ২০২৩ সালের গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে ফিডের দাম প্রতি কেজিতে ১৫–২০ টাকা বেশি রাখা হয়। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ে, অথচ বাজারে কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ায় খামারিরা নিয়মিত লোকসানে পড়ছেন। সংগঠনটি অভিযোগ করেছে, ডিম-মুরগির দাম বাড়লেই সরকার তৎপর হয়, কিন্তু ফিড বা বাচ্চার দাম বাড়লে কোনো ব্যবস্থা নেয় না। এই সিন্ডিকেট না ভাঙলে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে না। সংবাদ সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খন্দকার সাত দফা দাবি তুলে ধরেন—
১. করপোরেট সিন্ডিকেট ভেঙে ফিড, বাচ্চা, ওষুধ ও ভ্যাকসিনের দাম সরকার নির্ধারণ করবে;
২. করপোরেট প্রভাবমুক্ত, ন্যায্য ও স্বচ্ছ বাজার ব্যবস্থা গঠন;
৩. প্রান্তিক খামারিদের প্রতিনিধিদের নীতিনির্ধারণে অন্তর্ভুক্তি;
৪. ফিড, বাচ্চা ও ওষুধ বাজারে নিয়মিত অডিট চালু;
৫. উৎপাদন খরচের ওপর ১০% লাভ সংযুক্ত করে ন্যায্য দাম নির্ধারণ;
৬. ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের প্রণোদনা, জামানতবিহীন ঋণ ও ভর্তুকি প্রদান;
৭. দুর্নীতিগ্রস্ত ও করপোরেটপন্থি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা।


