শিরোনাম
➤চট্টগ্রাম রেঞ্জে আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী অপরাধের অন্ধকারে আলোর সন্ধান, মাঠে নেমেই কঠোরতার বার্তা➤রাউজানে মানব কল্যাণে ধম্মকথার ১ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন➤বোয়ালখালী সিরাজুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজ জাতীয়করণ এখন সময়ের দাবি ৫৬ বছরের ঐতিহ্য, হাজারো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ এবং বোয়ালখালীবাসীর প্রত্যাশা➤কোতোয়ালী পুলিশের অভিযানে চুরি-ছিনতাইসহ একাধিক মামলার আসামি হেলালসহ গ্রেপ্তার ৩➤চট্টগ্রামের স্বার্থে একজন চেয়ারম্যানকে কাজ করতে দিন | নগর পরিকল্পনার কঠিন পথে বাধা নয়, চাই সত্য, প্রমাণ ও আইনের শাসন➤উৎপাদন বাড়লে হাতের নাগালে আসতে পারে ইলিশের দাম➤মিছিল থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মী আটক, ছাড়িয়ে নিলেন পথচারীরা➤ভোটার এলাকা স্থানান্তরের আবেদন প্রক্রিয়া জেনে নিন➤বিশ্ববাজারে কমেছে তেলের দাম➤গুলশানে গাড়িচাপায় নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু: ৯ লাখ টাকায় আপস

― Advertisement ―

চট্টগ্রাম রেঞ্জে আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী অপরাধের অন্ধকারে আলোর সন্ধান, মাঠে নেমেই কঠোরতার বার্তা

মো. কামাল উদ্দিন ডেপুটি এডিটর, দি টুরিস্ট নির্বাহী সম্পাদক, চট্রল চিত্র সাধারণ সম্পাদক, চট্টগ্রাম সিনিয়র’স প্রেসক্লাব চট্টগ্রামের মাটি যেমন সমুদ্রের বিশালতা ধারণ করে, তেমনি ধারণ করে পাহাড়ের নীরবতা,...

ইত্তেফাক- সাত দশকের আলোকবর্তিকা, জাতির বিবেক ও সময়ের সাক্ষ্য-

Homeচট্টগ্রামইত্তেফাক- সাত দশকের আলোকবর্তিকা, জাতির বিবেক ও সময়ের সাক্ষ্য-

“মো. কামাল উদ্দিনঃ
বাংলাদেশের সংবাদপত্র জগতের ইতিহাস উচ্চারণ করলেই যে নামটি প্রথমে শ্রদ্ধাভরে উচ্চারিত হয়, সেটি—দৈনিক ইত্তেফাক। এটি কেবল একটি পত্রিকা নয়; এটি একটি সময়, একটি আন্দোলন, একটি জাতির আত্মকথা। রাষ্ট্রের উত্থান-পতন, গণমানুষের কান্না-হাসি, স্বপ্ন ও সংগ্রামের দীর্ঘ যাত্রাপথে ‘ইত্তেফাক’ ছিল অবিচল এক সঙ্গী—সত্যের পথে দৃঢ়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে নির্ভীক।
১৯৫৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার হাত ধরে যে যাত্রার সূচনা, তা আজ সাত দশকেরও বেশি সময় অতিক্রম করেছে। ২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর ‘ইত্তেফাক’ পদার্পণ করবে ৭৩ বছরে—একটি পত্রিকার জন্য যা কেবল বয়স নয়, বরং প্রজ্ঞা, দায়িত্ব ও ঐতিহ্যের ভার বহনের সাক্ষ্য। মানিক মিয়া: একজন সম্পাদক নয়, একটি দর্শন তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া ছিলেন এমন এক সম্পাদক, যিনি সংবাদপত্রকে কাগজের পাতায় সীমাবদ্ধ রাখেননি। তিনি বুঝেছিলেন—সংবাদপত্র মানে কেবল সংবাদ পরিবেশন নয়; সংবাদপত্র মানে মানুষের অধিকার, চিন্তার স্বাধীনতা ও পরিবর্তনের হাতিয়ার। পাকিস্তান আমলে যখন গণমাধ্যম ছিল শাসকের চোখরাঙানির মধ্যে বন্দি, তখন ‘ইত্তেফাক’ হয়ে উঠেছিল শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের মুখপাত্র। ভাষা আন্দোলন থেকে ছয় দফা, গণ-অভ্যুত্থান থেকে মুক্তিযুদ্ধ—প্রতিটি ইতিহাসের সন্ধিক্ষণে ‘ইত্তেফাক’ ছিল শুধু পর্যবেক্ষক নয়, বরং সক্রিয় অংশগ্রহণকারী। মানিক মিয়ার কলমে উঠে এসেছে শাসকের অন্যায়, রাজনৈতিক বৈষম্য, গণমানুষের অধিকারহীনতার করুণ চিত্র। তিনি প্রমাণ করেছিলেন—সত্য লিখতে হলে সাহস লাগে, আর সেই সাহসই একটি পত্রিকাকে জাতির বিবেক বানায়। স্বাধীনতার সংগ্রামে ইত্তেফাকের অনন্য ভূমিকা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস লিখতে গেলে ‘ইত্তেফাক’-এর নাম বাদ দেওয়া অসম্ভব। মুক্তিযুদ্ধের সময় এই পত্রিকা স্বাধীনতার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিল যা ছিল বিপজ্জনক, ঝুঁকিপূর্ণ, কিন্তু অপরিহার্য। সেই দুঃসময়ে ‘ইত্তেফাক’ সত্যকে আড়াল করেনি, বরং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তা প্রকাশ করেছে। স্বাধীনতার পর দেশ গঠনের কঠিন সময়ে ‘ইত্তেফাক’ হয়ে ওঠে নতুন বাংলাদেশের আয়না। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম, স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন, মানুষের ভোটাধিকার ও বাকস্বাধীনতার প্রশ্নে ‘ইত্তেফাক’ ছিল প্রথম সারির কণ্ঠস্বর। সরকারের সাফল্য যেমন তুলে ধরেছে, তেমনি ব্যর্থতা ও অনিয়মের সমালোচনাও করেছে অকপটে—কারণ সত্য বলার দায়বদ্ধতা থেকেই জন্ম নেয় প্রকৃত সাংবাদিকতা। সময় বদলেছে, আদর্শ বদলায়নি
সময় বদলায়, প্রযুক্তি বদলায়, পাঠকের অভ্যাস বদলায় কিন্তু ‘ইত্তেফাক’ বদলায়নি তার মৌলিক আদর্শ আজকের দিনে সংবাদ আর শুধু ছাপার কাগজে সীমাবদ্ধ নয়; ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, অনলাইন সংস্করণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সব মিলিয়ে সংবাদ পৌঁছে যাচ্ছে মুহূর্তে মুহূর্তে। এই পরিবর্তনের স্রোতে অনেকেই দিক হারিয়েছে, কিন্তু ‘ইত্তেফাক’ তার নৈতিক কম্পাস অটুট রেখেছে। আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সাহসী ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার সংমিশ্রণে ‘ইত্তেফাক’ তৈরি করেছে এক নতুন মানদণ্ড। তথ্যের নির্ভুলতা, মতামতের ভারসাম্য, নৈতিকতার প্রশ্নে আপসহীনতা—এই তিন স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আজও ‘ইত্তেফাক’ পাঠকের আস্থা অর্জন করে চলেছে। তরুণ প্রজন্মের কাছে এটি সত্য ও তথ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম; প্রবীণদের কাছে এটি ইতিহাসের জীবন্ত দলিল। ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: উদযাপন, স্মরণ ও প্রতিজ্ঞা ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫—‘দৈনিক ইত্তেফাক’-এর ৭৩ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এটি কেবল একটি জন্মদিন নয়; এটি জাতির পথচলার এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। চট্টগ্রামের জুবিলী রোডে জীবন বীমা ভবনে অবস্থিত ‘ইত্তেফাক’ ব্যুরো অফিসে এই উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠান যেন ইতিহাস ও বর্তমানের এক মিলনমেলা। এই দিনে আমরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি সেই সব কলম সৈনিকদের, যারা সংবাদপত্রকে কেবল পেশা নয়, দায়িত্ব ও ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। যাদের লেখনী ছিল নির্যাতিত মানুষের আশ্রয়, নিপীড়কের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। তাদের অবদানেই ‘ইত্তেফাক’ আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন সাংবাদিকতা ও সমাজের নানা স্তরের গুণীজনেরা। আমন্ত্রণে—সালাহউদ্দিন মো. রেজা, ব্যুরো প্রধান, চট্টগ্রাম অফিস; সভাপতি, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব। সময়—সকাল ১১টা। স্থান—জীবন বীমা ভবন, ৪ নম্বর জুবিলী রোড, চট্টগ্রাম, মানিক মিয়ার আদর্শ: ভবিষ্যতের দিশা তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার দেখানো পথ আজও প্রাসঙ্গিক—হয়তো আগের চেয়েও বেশি। যখন তথ্যের ভিড়ে সত্য চাপা পড়ে যায়, যখন গুজব সংবাদকে ছাপিয়ে যায়, তখন প্রয়োজন হয় এমন এক সাংবাদিকতার, যা নির্ভীক ও দায়িত্বশীল। ‘ইত্তেফাক’ সেই আদর্শ বহন করে চলেছে। ভবিষ্যতের পথচলায় ‘ইত্তেফাক’ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ—মুক্ত গণমাধ্যম, বাকস্বাধীনতা ও জনগণের অধিকার রক্ষায় অবিচল থাকবে। সত্য ও ন্যায়ের পথে থেকে সাহসী সাংবাদিকতার নতুন নতুন দিগন্ত উন্মোচন করাই হবে এই পত্রিকার অঙ্গীকার।
শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা: সহযাত্রীদের কণ্ঠে ইত্তেফাক
বাংলাদেশের সাংবাদিকতার ইতিহাসে যে নামটি সর্বপ্রথম উচ্চারিত হয়—সেটি ‘দৈনিক ইত্তেফাক’। সাত দশক ধরে জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠা এই পত্রিকা গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সমাজ পরিবর্তনের নির্ভীক সাক্ষী। দৈনিক ভোরের আওয়াজ ও The Daily Banner-এর পক্ষ থেকে ‘ইত্তেফাক’-এর ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও গভীর শ্রদ্ধা। ভাষা
আন্দোলন থেকে স্বাধীনতা সংগ্রাম, গণতান্ত্রিক আন্দোলন থেকে আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তা—সবখানেই ‘ইত্তেফাক’-এর অবস্থান ছিল দৃঢ় ও অকুতোভয়।
সাংবাদিকতার এই উৎকর্ষ ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা সহজ নয়। কিন্তু ‘ইত্তেফাক’ প্রমাণ করেছে—সত্যের পথে অবিচল থাকলে একটি পত্রিকা জাতির পথপ্রদর্শক হয়ে উঠতে পারে। আগামীতেও একই সাহস, সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে ‘ইত্তেফাক’ জাতির সেবা করে যাবে—এই বিশ্বাস আমাদের। আমাদের প্রতিজ্ঞা সাংবাদিকতার পবিত্র দায়িত্ব পালনে ‘ইত্তেফাক’ যে মানদণ্ড স্থাপন করেছে, তা আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা। সাদা কালো মাল্টিমিডিয়া নিউজ হাউজ এর অঙ্গপ্রতিষ্ঠান চট্রল চিত্র, Daily Tourist, সময়ের আলো পত্রিকা, কথা টিভি, দৈনিক ভোরের আওয়াজ ও The Daily Banner এই আদর্শকে সামনে রেখেই এগিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সত্য ও ন্যায়ের পথে, জাতির কল্যাণে আমরা সদা প্রস্তুত। ‘ইত্তেফাক’-এর দীর্ঘায়ু কামনা করছি। আপনারা সত্যের কথা বলে যান আমরা সেই সত্যের সাক্ষী হয়ে পাশে থাকব। ‘ইত্তেফাক’ শুধু একটি সংবাদপত্র নয়—এটি একটি ঐতিহ্য, একটি গৌরবময় অধ্যায়, একটি জীবন্ত ইতিহাস। সাত দশকের পথপরিক্রমা শেষে যখন এটি আট দশকের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন আমাদের দায়িত্ব আরও বেড়ে যায় এই আলো যেন নিভে না যায়। পাঠকের ভালোবাসা, সমর্থন ও আস্থাই ‘ইত্তেফাক’-এর সবচেয়ে বড় শক্তি। সেই শক্তি নিয়েই ‘ইত্তেফাক’ আগামী দিনেও সত্যের পথিক হয়ে চলবে—নির্ভীক, ন্যায়নিষ্ঠ, অটল।