শিরোনাম
➤চট্টগ্রামের স্বার্থে একজন চেয়ারম্যানকে কাজ করতে দিন | নগর পরিকল্পনার কঠিন পথে বাধা নয়, চাই সত্য, প্রমাণ ও আইনের শাসন➤উৎপাদন বাড়লে হাতের নাগালে আসতে পারে ইলিশের দাম➤মিছিল থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মী আটক, ছাড়িয়ে নিলেন পথচারীরা➤ভোটার এলাকা স্থানান্তরের আবেদন প্রক্রিয়া জেনে নিন➤বিশ্ববাজারে কমেছে তেলের দাম➤গুলশানে গাড়িচাপায় নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু: ৯ লাখ টাকায় আপস➤“ঝড়, বিতর্ক ও প্রত্যাবর্তন: কোতোয়ালী পেরিয়ে গুলশানে আবু জায়েদ নাজমুন নূর-একজন পেশাদার পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা প্রশ্নের সবচেয়ে শক্ত জবাব -নতুন দায়িত্ব, নতুন আস্থা, নতুন অধ্যায়””➤ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধ, বাতিল ১০৩ অনাপত্তি সনদ➤রাষ্ট্রীয় পুলিশ পদকের স্বীকৃতি পাচ্ছেন বাবুল আজাদ কঠিন সময়ে পাহাড়তলী থেকে ডবলমুরিং, চকবাজার হয়ে ডিবিতে; সাহস, মেধা ও পেশাদারিত্বে উজ্জ্বল এক পুলিশ কর্মকর্তার পথচলা-➤জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও নিত্যপণ্যের বাজারে বড় প্রভাব পড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

― Advertisement ―

চট্টগ্রামের স্বার্থে একজন চেয়ারম্যানকে কাজ করতে দিন | নগর পরিকল্পনার কঠিন পথে বাধা নয়, চাই সত্য, প্রমাণ ও আইনের শাসন

মো. কামাল উদ্দিন:চট্টগ্রামকে ভালোবাসি বললেই চট্টগ্রামের জন্য কাজ করা হয় না। চট্টগ্রামের জন্য কাজ করতে হলে অনেক সময় জনপ্রিয়তার পথ ছেড়ে কঠিন সিদ্ধান্তের পথে...

স্পার্টাকাসের আর্তনাদ, তারুণ্যের উচ্চারণ বয়ান শিল্পাঙ্গনের মঞ্চে ইতিহাস, প্রতিবাদ ও সময়ের পুনর্জাগরণ-

Homeচট্টগ্রামস্পার্টাকাসের আর্তনাদ, তারুণ্যের উচ্চারণ বয়ান শিল্পাঙ্গনের মঞ্চে ইতিহাস, প্রতিবাদ ও সময়ের পুনর্জাগরণ-

-মোহাম্মদ রাকিবঃ
থিয়েটার ইন্সটিটিউট চট্টগ্রামের মূল মিলনায়তন গতকাল ১৭ জানুয়ারি, শনিবার—আর দশটা দিনের মতো ছিল না। বিকেল সাড়ে পাঁচটা থেকে সন্ধ্যা সাতটার প্রদীপ-আলোয় মঞ্চ যেন হয়ে উঠেছিল ইতিহাসের এক রক্তাক্ত অথচ দীপ্ত অধ্যায়। বয়ান শিল্পাঙ্গনের দ্বিতীয় প্রযোজনা ‘স্পার্টাকাস বিষয়ক জটিলতা’-এর দ্বিতীয় ও তৃতীয় মঞ্চায়ন চট্টগ্রামের নাট্যপ্রেমী দর্শকদের সামনে হাজির করল দাসত্ব, বিদ্রোহ ও মানবিক মুক্তির এক অনিবার্য ভাষ্য। প্রয়াত নাট্যকার মমতাজউদ্দীন আহমদ-এর রচিত এই নাটকটি কেবল একটি ঐতিহাসিক চরিত্রের গল্প নয়; এটি ক্ষমতা ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে মানুষের চিরন্তন প্রতিরোধের দলিল। রোমান সাম্রাজ্যের দাস স্পার্টাকাস হয়ে ওঠে সব যুগের নিপীড়িত মানুষের প্রতীক—যার কণ্ঠস্বর আজও প্রতিধ্বনিত হয় শোষণ ও বৈষম্যের ভেতর। নির্দেশনায় নতুন পাঠ, নতুন দৃষ্টি নাট্যজন সায়েম উদ্দীন-এর পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় নাটকটি পেয়েছে এক নতুন আঙ্গিক। তিনি ইতিহাসকে পুনর্নির্মাণ করেননি; বরং ইতিহাসের ভেতর থেকে সময়ের প্রশ্নগুলো তুলে এনেছেন। তাঁর নির্দেশনায় মঞ্চে দৃশ্যের পর দৃশ্য গড়ে উঠেছে প্রশ্নে, দ্বন্দ্বে ও নীরবতায় যেখানে শব্দের পাশাপাশি নীরবতাও কথা বলে। নাটকটি দেখে বোঝা যায়, এটি কেবল অভিনয় নয় এটি একটি রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থান। সায়েম উদ্দীন স্পার্টাকাসকে অতীতের চরিত্র হিসেবে নয়, বরং বর্তমান সময়ের এক চলমান প্রতিবাদ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। মঞ্চরূপ ও দৃশ্যভাষা রূপসজ্জায় শাহীন চৌধুরী ও বীণা দাশ গুপ্ত মঞ্চকে পরিণত করেছেন এক প্রতীকী পরিসরে। ধূসরতা, আলো-ছায়ার বিন্যাস ও স্থির কাঠামোর ভেতর দিয়ে নির্মিত হয়েছে দাসত্বের কঠিন বাস্তবতা। পোশাক পরিকল্পনায় জান্নাতুল কবিতা ও মুক্তা সাহা চরিত্রের সামাজিক অবস্থান ও মানসিক জটিলতাকে তুলে ধরেছেন নিখুঁত সংবেদনশীলতায়। অভিনয়ে সম্মিলিত শক্তি নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন জান্নাতুল কবিতা, রামিসা, অবন্তি, রাইসা, পার্থ সারথি দে, সাজু বড়ুয়া, মনিরুল মান্নান, মুক্তা সাহা, রেশমি, রিক্তা বড়ুয়া, সুব্রত পাল, রানা দে, জহিরুল ইসলাম, দিগন্ত রায়, সৌরভ এবং সায়েম উদ্দীন। তাঁদের অভিনয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে দলগত সংযম ও আন্তরিক সাধনা। সংলাপের পাশাপাশি দেহভাষা, চোখের ভাষা ও নীরব উপস্থিতি নাটকের গভীরতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। কোথাও উচ্চারণ তীক্ষ্ণ, কোথাও নীরবতা ছিল সবচেয়ে উচ্চকিত। আলো ও সংগীতে আবহের নির্মাণ আলোক পরিকল্পনায় রিপন বড়ুয়া ও বড়ুয়া সীমান্ত মঞ্চের আবহকে করেছেন বহুমাত্রিক। আলো কখনো চরিত্রের ভেতরের দ্বন্দ্বকে উন্মোচিত করেছে, কখনো দাসত্বের অন্ধকারকে দৃশ্যমান করেছে। আবহ সংগীতে আজমল নবীন, রক ডায়াস ও তারিন আহমেদ তিশা-র সুর নাটকের গতিকে দিয়েছে আবেগ ও তীব্রতা। শব্দ ও নীরবতার মিশ্রণে তৈরি হয়েছে এক অন্তর্লীন চাপ—যা দর্শককে সারাক্ষণ নাটকের সঙ্গে বেঁধে রেখেছে। প্রতিক্রিয়ায় স্মৃতি ও প্রত্যাশা মঞ্চায়ন শেষে বরেণ্য নাট্যজন প্রদীপ দেওয়ানজী বলেন “তারুণ্যে উদ্দীপ্ত বয়ান শিল্পাঙ্গনের এই প্রযোজনা সময়ের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে চট্টগ্রামের নাট্যচর্চা আরও সমৃদ্ধ হবে।” বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত অনুবাদক ও সমালোচক আলম খোরশেদ আবেগাপ্লুত কণ্ঠে স্মৃতির জানালা খুলে দেন “৫২ বছর আগের চট্টগ্রামে গ্রুপ থিয়েটার ’৭৩-এর মঞ্চায়নের স্মৃতি যেন আজ আবার ফিরে এলো। দীর্ঘ সময় পর এই নাটক নতুন আঙ্গিকে মঞ্চায়নের জন্য বয়ান শিল্পাঙ্গনকে অভিনন্দন।” দর্শকই শক্তি দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি, নিঃশ্বাসের শব্দ, নীরবতার গভীরতা ও করতালির উষ্ণতা নাটকটিকে করেছে আরও প্রাণবন্ত। নির্দেশকের ভাষায়, দর্শকের এই সাড়া নাটকের গতি ও শক্তিকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ‘স্পার্টাকাস বিষয়ক জটিলতা’ শুধু একটি নাটক নয় এটি ইতিহাসের সঙ্গে বর্তমানের সংলাপ। বয়ান শিল্পাঙ্গনের এই প্রযোজনা প্রমাণ করে, থিয়েটার এখনো সমাজকে প্রশ্ন করতে পারে, মানুষকে নাড়া দিতে পারে এবং সময়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস জাগাতে পারে। চট্টগ্রামের নাট্যাঙ্গনে এই উচ্চারণ দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে