
-চট্রল চিত্র ডেস্কঃ
রাউজান উপজেলায় ‘কালচারাল পার্ক’-এর ১৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তিনদিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের সমাপনী দিন শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা, গুণীজন সম্মাননা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান। একই সঙ্গে শীলানন্দ পাঠাগারের আয়োজনে মেধাবিকাশ মূল্যায়ন ও বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে অংশ নেন লেখক, সাংবাদিক, আইনজীবী ও সমাজসেবী ব্যক্তিত্বরা। আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন দেশবরেণ্য মুক্তিযোদ্ধা, ইতিহাস গবেষক এবং চট্টগ্রামের চট্রল চিত্রের সম্পাদক ও বলাকা প্রকাশনীর কর্ণধার জামাল উদ্দিন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “সংস্কৃতি ও সাহিত্য আমাদের সমাজকে একত্রিত করে, ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করে এবং নতুন প্রজন্মকে মানসিক শক্তি ও শিক্ষার আলোয় আলোকিত করে। কালচারাল পার্কের মতো প্রতিষ্ঠান শুধু একটি জায়গা নয়, এটি একটি শিক্ষা ও প্রেরণার ক্ষেত্র, যেখানে সাহিত্য, ইতিহাস ও সমাজসেবা একত্রে বিকশিত হয়।” জামাল উদ্দিন আরও বলেন, “আমরা যদি আমাদের ইতিহাস, সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি দায়বদ্ধ থাকি, তবে সমাজে শিক্ষার প্রসার এবং মানসম্মত মেধাবিকাশ নিশ্চিত করা সম্ভব। এই ধরনের বৃত্তি প্রদান শুধু শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা নয়, বরং তাদের প্রতিভাকে স্বীকৃতি দেওয়ার একটি পথ।” উপস্থিত অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা—দেশবরেণ্য মুক্তিযোদ্ধা, সমাজসেবী ও আইনজীবী—ও বিভিন্ন দিক থেকে সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে এই ধরনের আয়োজন শিক্ষার প্রতি মনোযোগ বৃদ্ধি করে, নতুন প্রজন্মকে নৈতিক ও বৌদ্ধিক দিক থেকে সমৃদ্ধ করে এবং সমাজে উদারচেতা নাগরিক গঠনে সহায়ক ভূমিকা রাখে। শীলানন্দ পাঠাগারের উদ্যোগে পরিচালিত মেধাবিকাশ মূল্যায়ন ও বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্দীপনা, সৃজনশীলতা এবং সাংস্কৃতিক চেতনা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে বিভিন্ন পুরস্কার ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়। সমাপনী দিনে উপস্থিত সকল অতিথি, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সমাজকর্মীরা অনুষ্ঠানকে একটি অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে অভিহিত করেন। তিনদিনব্যাপী এ আয়োজন কেবল আনন্দ ও উৎসবের প্রতীক নয়, এটি রাউজান উপজেলা এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মেধাবিকাশের অগ্রযাত্রার এক জ্বলন্ত উদাহরণ।


